1. info@banglanewstelevision.live : bangla news television : bangla news television
  2. doinikajkerunmocon@gmail.com : Emon Khan : Emon Khan
  3. admin@www.banglanewstelevision.live : বাংলা নিউজ টেলিভিশন :
বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০১:১৫ অপরাহ্ন

স্ত্রীকে মেরে প্রতিবেশীদের ফাঁসিয়ে জমি দখলের পাঁয়তারা মাদকের গডফাদার ভূমিদস্যু মিজুর! রয়েছে পরকীয়ার জের!

ভূরুঙ্গামারী(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২২
  • ২০৯ বার পড়া হয়েছে

ভূরুঙ্গামারী(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ এবার কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দর এলাকার আলিমুদ্দিনের পুত্র চিহ্নিত মাদকের গডফাদার, ভারতীয় জঙ্গি সংগঠন উলফা’র সক্রিয় সদস্য, হুন্ডি ব্যবসায়ী, শিশু পাচারকারী, ভূমিদস্যু, এক সময়ের ছিঁচকে চোর-বর্তমানে কয়েকশত কোটি টাকার মালিক মিজানুর রহমান মিজু (৪৬) তার স্ত্রীকে মেরে গুরুতর আহত অবস্থায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গতকাল শনিবার সন্ধা আনুমানিক ০৭.৩০ ঘটিকার সময় পুলিশ ফাইলে ভর্তি করিয়েই কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করালেন! পরে এম্বুলেন্সযোগে মারত্বক আহত আনজিনা বেগমকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল অথবা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দ্যেশ্যে নিয়ে যান।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধা আনুমানিক ০৭.৩০ ঘটিকার সময় দুইজন পুরুষ ও একজন স্বাস্থ্যবতী মহিলা মাদকের গডফাদার, ভূমিদস্যু মিজানুর রহমান মিজুর স্ত্রী আনজিনা বেগমকে অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মারাত্বক আহত আনজিনা বেগমকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। হাসপাতাল সূত্রে আরো জানা যায়, আহত নারী হাসপাতালে ভর্তি হয়েই অজ্ঞান অবস্থায় দুইবার বমি করেন এবং তার মাথা, গলা, বুক, পেট, বাহু, দুই পা সহ সারা শরীরে মারাত্মক জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী জানান, গত ১০ জানুয়ারী মধ্যরাতে কয়েকটি বাড়ীতে ডাকাতি, লুটপাট ও ভাংচুর শেষে জমি দখলের ব্যর্থ চেষ্টা চালায় মিজু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। উক্ত হামলায় মিজুর স্ত্রী আনজিনা বেগম অংশগ্রহণ করেন। পরে ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা দায়ের হলে (মামলা নং ০৩/২২ ইং) আনজিনা বেগম গ্রেফতার হয়ে জেল হাজত খেটে জামিনে বেরিয়ে এসেই মিজুর নির্দেশে মামলার বাদীর বাড়ীতে প্রকাশ্য দিনের বেলায় দলবল নিয়ে হামলা চালায়।
পরে বাদী ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশের শরণাপন্ন হলে থানা কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন এবং ভূমিদস্যু মিজুর নিকট এরুপ আচরণের জবাবদিহি চাইলে সুচতুর মিজু কৌশলে নিজ স্ত্রীর উপর দায় চাপিয়ে দেন। এ বিষয় এবং আনজিনা বেগমের নিজ নামীয় লাইসেন্স বিহীন বহুতল আবাসিক হোটেলে অবস্থানরত সোনাহাট স্থলবন্দর হতে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত ৪ লেন জাতীয় মহাসড়ক নির্মাণ কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের জনৈক কর্মচারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পরা প্রসঙ্গে তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে মিজু, তার ছোট বোন রহিমা, ছোট ভাই রিপন, রন্জু মিয়া, বড় ভাই আমিনুর সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা আনজিনা বেগমকে বেধড়ক মারপিট করে মারাত্বক আহত করে। পরে সন্ধায় ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ধূর্ত মিজানুর রহমান মিজু মাদক ব্যবসা, দুর্নীতি, ভূমিদস্যুতা সহ তার যাবতীয় অপকর্মলব্ধ অবৈধ কোটি কোটি টাকা লেনদেনের জন্য কৌশলে স্ত্রী আনজিনা বেগমের নামে ব্যাংক একাউন্ট খুলেন এবং উল্লেখিত বহুতল আলিশান আবাসিক হোটেলটিও স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রি ক্রয়কৃত। উদ্দেশ্য, দুদক সহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিকট নিজের অপকর্মের দায় স্ত্রী আনজিনা বেগমের উপর চাপিয়ে দিয়ে নিজে বিপদ মুক্ত থাকা!

কিন্তু ইতিমধ্যে আনজিনা বেগম পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়লে অতি চালাক মিজানুর রহমান মিজু উভয় সংকটে পড়েন!

এমতাবস্থায়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, অতি ধূর্ত মিজানুর রহমান মিজু তার স্ত্রী দুই সন্তানের জননী আনজিনা বেগমকে হত্যা করতে পারলে আনজিনা বেগমের নামীয় বহুতল আবাসিক হোটেল, ব্যাংক একাউন্ট সহ অন্যান্য সম্পত্তি হস্তগত করতে পারবেন। অপর দিকে ভূমিদস্যু মিজু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক নিপীড়িত প্রতিপক্ষদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে অনায়াসে তাঁদের জমি দখল করে নিতে পারবেন।
উল্লেখ্য, জমি দখলের উদ্দেশ্যে ইতিপূর্বে সোনাহাট স্থলবন্দর এলাকার দরীদ্র পান-সুপারী বিক্রেতা আবু সুফিয়ান, হায়দার আলী এবং ফরিদুল ইসলাম নামের তিনজন ব্যক্তিকে একটি সাজানো হত্যা মামলা জড়িয়ে দেয়। সোনাহাট এলাকার সটিবাড়ী গ্রামের জনৈক মোঃ সফিকুল ইসলাম (৪০), পিতা- মৃত অমতুল্ল্যা এর বোনের সংসার নিয়ে ঝামেলা তৈরী হলে ঘটনার দিন সন্ধা বেলায় সফিকুলের বাড়ীতে শালিশ বৈঠকের আয়োজন হয়। উক্ত শালিশে মিজানুর রহমান মিজু অন্যতম মাতব্বর সেজে বসেন। শালিসের এক পর্যায়ে চতুর মিজু কৌশলে হাঙ্গামা বাঁধিয়ে দিয়ে শালিসে উপস্থিত সফিকুলের শাশুড়ী স্থানীয় আবেদ আলীর স্ত্রী প্রৌঢ় মমেনা বেগমকে নিজ হাতে গলা টিপে হত্যা করেন। পরে নিজেই সফিকুলের দেওয়ানী সেজে মুর্খ সফিকুলকে বাদী বানিয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে এবং সফিকুলের অজান্তে উল্লেখিত তিন ব্যক্তি সহ শাহীবাজার এলাকার ১৪/১৫ জনকে আসামী দেন। হত্যা মামলায় জড়িয়ে এক পর্যায়ে আবু সুফিয়ান গংদের জমি দখল করে নেন মাদকের গডফাদার ভূমিদস্যু মিজানুর রহমান মিজু!
এলাকাবাসী মনে করেন, উল্লেখিত হত্যা মামলাটির পূনঃ তদন্ত হলে হত্যাকারী হিসেবে মিজানুর রহমান মিজু ফেঁসে যাবেন। আর, মিজুর নিজ স্ত্রী আনজিনা বেগমকে নির্যাতনের বর্তমান ঘটনাটি হয়তো আরেকটি একই ঘটনার জন্ম দিতে পারে বলে সকলেই আশংকা প্রকাশ করেন এবং বর্তমান ঘটনার দ্রুত তদন্তের দাবী জানান।
এ বিষয়ে গতকাল রাতে ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি সাধারন ডায়েরী দায়ের করা হয়, যার নম্বর ৬৬৪।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© বাংলা নিউজ টেলিভিশন মিডিয়া লিমিটেড-২০২২ (দৈনিক বাংলার সংগ্রাম পত্রিকার একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান) সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

ওয়েবসাইট নকশা প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট